Wednesday, June 30, 2010

Yesmin Nodi:

নারীদের কথা : ছোটবেলা থেকেই একটি নারী শিশু পরিবারের বৈষম্যের শিকার হয়।পরিবার থেকে তাকে শিখানো হয়। তুমি মেয়ে তুমি এই কাজটি করবে না। তুমি মেয়ে তুমি খেলবে ঘরে। তুমি খেলবে পুতুল আর হাড়ি পাতিল দিয়ে। তুমি আস্তে কথা বলবে, উচ্চস্বরে নয়। মেয়েদের লেখাপড়ার দিকে ও তেমন নজর দেয়া হয় না। ছেলেকে ভালো স্কুলে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু মেয়েকে স্কুলে দিতে চায় না। ছেলের জন্য অনেক টাকা খরচ করতে পারে। কিন্তু মেয়ের জন্য কোন বাজেট থাকে না। পরিবারের সুযোগ সুবিধাগুলোর বেশীর ভাগটা ছেলেরা ভোগ করে। মেয়েরা ছিটেফোটা পায়। খাবারের ভেলায় ছেলে সন্তানেরা ভালো ও বেশীর খাবার খায়। মেয়ে সন্তানেরা কম খাবার খায়। অসুস্থ হলে ছেলেকে দ্রুত চিকিতসা করানো হয়। কিন্তু মেয়েকে ভালো ডাক্তার দিয়ে চেকআপ করানো হয় না। আরো কত কি। ভাগ্য বিধাতা সমান করে সৃষ্টি করলে ও পরিবার ও সমাজ নারীর অবস্থান ভিন্ন করে দিয়েছে।

নারীর কথা আমরা খুব কমই জানি। সমাজে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি, ধর্ম, আইন-কানুন, সঙস্কৃতি, ইতিহাস কোন ক্সেত্রেই নারীরা ঠাই পায়নি। অধিকাঙশ নারী তাদের সমগ্র জীবনব্যাপী তিনভাবে অধস্তনতার জোয়ল কাধে বহন করে। অধিকাঙশ নারীদের বসবাস হলো সঙসারে। নারী ও পুরুষের মধ্যেকার স্মপর্কের ধরনটিসমাজ কর্তৃক নির্ধারিত। সমাজে নারী ও পুরুষের কাজকে সমাজ পৃথক করে দিয়েছে।

Tuesday, June 29, 2010

প্রিয় বিনয় মজুমদারের আঠারোটি কবিতা

মুকুরে প্রতিফলিত

মুকুরে প্রতিফলিত সূর্যালোক স্বল্পকাল হাসে |
শিক্ষায়তনের কাছে হে নিশ্চল, স্নিগ্ধ দেবদারু
জিহ্বার উপরে দ্রব লবণের মত কণা-কণা
কী ছড়ায়, কে ছড়ায় ; শোনো, কী অস্ফুট স্বর, শোনো
‘কোথায়, কোথায় তুমি, কোথায় তোমার ডানা, শ্বেত পক্ষীমাতা,
এই যে এখানে জন্ম, একি সেই জনশ্রুত নীড় না মৃত্তিকা?
নীড় না মৃত্তিকা পূর্ণ এ অস্বচ্ছ মৃত্যুময় হিমে…’
তুমি বৃক্ষ, জ্ঞানহীন, মরণের ক্লিষ্ট সমাচার
জানো না, এখন তবে স্বর শোনো,অবহিত হও |

সুস্থ মৃত্তিকার চেয়ে সমুদ্রেরা কত বেশি বিপদসংকুল
তারো বেশি বিপদের নীলিমায় প্রক্ষালিত বিভিন্ন আকাশ,
এ-সত্য জেনেও তবু আমরা তো সাগরে আকাশে
সঞ্চারিত হ’তে চাই, চিরকাল হ’তে অভিলাষী,
সকল প্রকার জ্বরে মাথা ধোয়া আমাদের ভালো লাগে ব’লে |
তবুও কেন যে আজো, হায় হাসি, হায় দেবদারু,
মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়!
________________________________________
ভালোবাসা দিতে পারি

ভালোবাসা দিতে পারি, তোমরা কি গ্রহণে সক্ষম?
লীলাময়ী করপুটে তোমাদের সবই ঝ’রে যায় –
হাসি, জ্যোৎস্না, ব্যথা, স্মৃতি, অবশিষ্ট কিছুই থাকে না।
এ আমার অভিজ্ঞতা। পারাবতগুলি জ্যোৎস্নায়
কখনো ওড়ে না; তবু ভালোবাসা দিতে পারি।
শাশ্বত, সহজতম এই দান — শুধু অঙ্কুরের
উদগমে বাধা না দেওয়া, নিষ্পেষিত অনালোকে রেখে
ফ্যাকাশে হলুদবর্ণ না ক’রে শ্যামল হতে দেওয়া।
এতই সহজ, তবু বেদনায় নিজ হাতে রাখি
মৃত্যুর প্রস্তর, যাতে কাউকে না ভালোবেসে ফেলে ফেলি।
গ্রহণে সক্ষম নও। পারাবত, বৃক্ষচুড়া থেকে
পতন হলেও তুমি আঘাত পাও না, উড়ে যাবে।
প্রাচীন চিত্রের মতো চিরস্থায়ী হাসি নিয়ে তুমি
চ’লে যাবে; ক্ষত নিয়ে যন্ত্রণায় স্তব্ধ হব আমি।
________________________________________
আমার আশ্চর্য ফুল

আমার আশ্চর্য ফুল, যেন চকোলেট, নিমিষেই
গলাধঃকরণ তাকে না ক’রে ক্রমশ রস নিয়ে
তৃপ্ত হই, দীর্ঘ তৃষ্ণা ভুলে থাকি আবিষ্কারে, প্রেমে।
অনেক ভেবেছি আমি, অনেক ছোবল নিয়ে প্রাণে
জেনেছি বিদীর্ণ হওয়া কাকে বলে, কাকে বলে নীল-

আকাশের হৃদয়ের; কাকে বলে নির্বিকার পাখি।
অথবা ফড়িঙ তার স্বচ্ছ ডানা মেলে উড়ে যায়।
উড়ে যায় শ্বাস ফেলে যুবকের প্রানের উপরে।
আমি রোগে মুগ্ধ হয়ে দৃশ্য দেখি, দেখি জানালায়
আকাশের লালা ঝরে বাতাসের আশ্রয়ে আশ্রয়ে।
আমি মুগ্ধ; উড়ে গেছ; ফিরে এসো, ফিরে এসো , চাকা,
রথ হয়ে, জয় হয়ে, চিরন্তন কাব্য হয়ে এসো।
আমরা বিশুদ্ধ দেশে গান হবো, প্রেম হবো, অবয়বহীন
সুর হয়ে লিপ্ত হবো পৃথীবীর সব আকাশে।
________________________________________
কী উৎফুল্ল আশা নিয়ে

কী উৎফুল্ল আশা নিয়ে সকালে জেগেছি সবিনয়ে।
কৌটার মাংসের মতো সুরক্ষিত তোমার প্রতিভা
উদ্ভাসিত করেছিল ভবিষ্যৎ, দিকচক্রবাল।
সময়ে ভেবেছিলাম সম্মিলিত চায়ের ভাবনা,
বায়ুসেবনের কথা, চিরন্তন শিখরের বায়ু।
দৃষ্টিবিভ্রমের মতো কাল্পনিক বলে মনে হয়
তোমাকে অস্তিত্বহীনা, অথবা হয়তো লুপ্ত, মৃত।
অথবা করেছে ত্যাগ, অবৈধ পুত্রের মতো, পথে।
জীবনের কথা ভাবি, ক্ষত সেরে গেলে পরে ত্বকে
পুনরায় কেশোদ্গম হবে না; বিমর্ষ ভাবনায়
রাত্রির মাছির মতো শান্ত হয়ে রয়েছে বেদনা-
হাসপাতালের থেকে ফেরার সময়কার মনে।
মাঝে মাঝে অগোচরে বালকের ঘুমের ভিতরে
প্রস্রাব করার মতো অস্থানে বেদনা ঝরে যাবে।
_______________________________________
আমরা দুজনে মিলে

আমরা দুজনে মিলে জিতে গেছি বহুদিন হলো ।
তোমার গায়ের রঙ এখনো আগের মতো , তবে
তুমি আর হিন্দু নেই , খৃষ্টান হয়েছো ।
তুমি আর আমি কিন্তু দুজনেই বুড়ো হয়ে গেছি ।
আমার মাথার চুল যেরকম ছোটো করে ছেঁটেছি এখন
তোমার মাথার চুলও সেইরূপ ছোটো করে ছাঁটা ,
ছবিতে দেখেছি আমি দৈনিক পত্রিকাতেই ; যখন দুজনে
যুবতী ও যুবক ছিলাম
তখন কি জানতাম বুড়ো হয়ে যাব ?
আশা করি বর্তমানে তোমার সন্তান নাতি ইত্যাদি হয়েছে ।
আমার ঠিকানা আছে তোমার বাড়িতে ,
তোমার ঠিকানা আছে আমার বাড়িতে ,
চিঠি লিখব না ।

আমরা একত্রে আছি বইয়ের পাতায় ।
_________________________________________
আমাকে ও মনে রেখো

পৃথিবী,সূর্য ও চাঁদ এরা জ্যোতিস্ক এবং
আকাশের তারাদের কাছে চলে যাবো ।
আমাকে ও মনে রেখো পৃথিবীর লোক
আমি খুব বেশী দেশে থাকি নি কখনো ।
আসলে তিনটি মাত্র দেশে আমি থেকেছি,এখন
আমি থাকি বঙ্গদেশে,আমাকেও মনে রেখো বঙ্গদেশ তুমি ।
__________________________________________
আমার বাড়ির থেকে

আমার বাড়ির থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখি অগণিত যুবতী চলেছে।
এইসব বিবাহিতা এবং অবিবাহিতা যুবতীদিগের প্রত্যেকের
অন্তরে জয়পতাকা কিভাবে থাকে আমি সু ন্দর নিখুঁতভাবে দেখি
তাকিয়ে তাকিয়ে ওরা যখন হাঁটেঁ বা বসে থাকে।
প্রত্যেকটি যুবতীর অন্তরে জয়পতাকা প্রবেশ করেছে বহুবার,
নিজের অন্তরে ঢোকা জয়পতাকাকে খুব ভালবাসে যে কোনো যুবতী।
অনেক জয়পতাকা অন্তরে প্রবেশ করে তার মধ্যে যে জয়পতাকা
অন্তরে আনন্দ দেয় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ
তাকেই বিবাহ করে অনূড়া যুবতীগণ। আমার বাড়ির থেকে বাইরে বেরিয়ে
প্রতিদিন আমি দেখি অগণিত যুবতী চলেছে।
____________________________________________
আমিই তো চিকিৎসক

আমিই তো চিকিৎসক, ভ্রান্তিপূর্ণ চিকিৎসায় তার
মৃত্যু হলে কি প্রকার ব্যাহত আড়ষ্ট হয়ে আছি।
আবর্তনকালে সেই শবের সহিত দেখা হয়;
তখন হৃদয়ে এক চিরন্তন রৌদ্র জ্বলে ওঠে।
অথচ শবের সঙ্গে কথা বলা স্বাভাবিক কিনা
ভেবে-ভেবে দিন যায়; চোখাচুখি হলে লজ্জা ভয়ে
দ্রুত অন্য দিকে যাই; কুক্কুপিন্ট ফুলের ভিতরে
জ্বরাক্রান্ত মানুষের মত তাপ; সেই ফল খুঁজি।
__________________________________________
এরূপ বিরহ ভালো

এরূপ বিরহ ভালো ; কবিতার প্রথম পাঠের
পরবর্তীকাল যদি নিদ্রিতের মতো থাকা যায়,
স্বপ্নাচ্ছন্ন, কাল্পনিক ; দীর্ঘকাল পরে পুনরায়
পাঠের সময় যদি শাশ্বত ফুলের মতো স্মিত,
রূপ, ঘ্রাণ, ঝ’রে পড়ে তাহলে সার্থক সব ব্যথা,
সকল বিরহ, স্বপ্ন ; মদিরার বুদ্বুদের মতো
মৃদু শব্দে সমাচ্ছন্ন, কবিতা, তোমার অপ্রণয়।
হাসির মতন তুমি মিলিয়ে গিয়েছো সিন্ধুপারে।
এখন অপেক্ষা করি, বালিকাকে বিদায় দেবার
বহু পরে পুনরায় দর্শনের অপেক্ষার মতো--
হয়তো সর্বস্ব তার ভ’রে গেছে চমকে চমকে।
অভিভূত প্রত্যাশায় এরূপ বিরহব্যথা ভালো।
__________________________________
কুঁড়ি

পদ্মপাতার প’রে জল টলমল করে;
কাছে কোনো ফুল তো দেখিনা,
সাধ জাগে, – বড়ো সাধ জাগে -
ডুব দিয়ে দেখে আসি নধর জলে নিচে
আকাশের অভিমুখী উন্মুখ কুঁড়ি আছে কিনা।
হয়তো সে কুঁড়ি
ফোটবার ইচ্ছায় থেকে থেকে – থেকে থেকে
কোন কালে হয়ে গেছে বুড়ি;
কোন কালে তার সব রূপ গেছে প’চে;
হয়তো বা তার আর নেই কোন লেশ।
সাধ জাগে, বড়ো সাধ জাগে-
ডুব দিয়ে দেখে আসি নধর জলে নিচে
এখনো রয়েছে কিনা কোন অবশেষ।
_______________________________________
ঘুমোবার আগে

তপ্ত লৌহদণ্ড জল ডোবাতে এবং সেই জল খেত নরনারীগণ,
তার ফলে মানুষের রক্তাল্পতা দুর্বলতা জনিত অসুখ সেরে যেত।
এইভাবে এককালে বাঁচতাম মানুষেরা এই পৃথিবীতে।

তবে সবই ঠিক আছে, ঘুমোবার আগে মনে পড়ে সারা দিনের ঘটনা।
মাঝরাতে বিছানায় চাঁদের জ্যোৎস্না এসে পড়ে দূর থেকে।
শুধু চাঁদ দেখবার জন্য আমি বিছানায় উঠে বসি, চাঁদ আছে বলে
ঘুমোতে বিলম্ব হয়। আমি তাড়াতাড়ি ফের যাব।
__________________________________________
মুকুট

এখন পাকুড়গাছে সম্পূর্ণ নূতন পাতা, তার সঙ্গে বিবাহিত এই
বটগাছে লাল লাল ফল ফলে আছে।
চারিদিকে চিরকাল আকাশ থাকার কথা, আছে কিনা আমি দেখে নিই।
অনেক শালিক পাখি আসে রোজ এই গাছে, বট ফলগুলি
তারা খুটেঁ খুটেঁ খায় বসন্তের হাওয়া বয়, শালিকের ডাক
এবং পাতার শব্দ মিশে একাকার হয়ে চারদিকে ভাসে।
এখন অনেক মেঘ সোনালি রূপালি কালো আকাশে আকাশে।
একটি মুকুট সেই পাকুড় গাছের নিচে শাড়ি পরে দাড়িয়েঁ রয়েছে।

মদের ফেনার মতো সাদা সাদা দাঁত আমি অনেক দেখেছি।
জেনেছি আগুন যত্ দুরেই হোক না কেন তাকে দেখা যায়।
মুকুরের বুকে ঠাঁই পেতে হলে সরাসরি সম্মুখেই চলে যেতে হয়
পিছনে বা পাশে নয়; গ্রন্থ ছন্দোবদ্ধ হলে তবে আপনিই মনে থাকে
মৃত্যু অবধিই থাকে; মানুষ সমুদ্রকেই সবচেয়ে বেশি ভালবাসে।
____________________________________________
সন্তপ্ত কুসুম ফুটে

সন্তপ্ত কুসুম ফুটে পুনরায় ক্ষোভে ঝরে যায়।
দেখে কবিকুল এত ক্লেশ পায়, অথচ হে তরু,
তুমি নিজে নির্বিকার, এই প্রিয় বেদনা বোঝো না।

কে ক্থোয় নিভে গেছে তার গুপ্ত কাহিনী জানি।
নিজের অন্তর দেখি, কবিতার কোনো পঙক্তি আর
মনে নেই গোধূলিতে; ভালোবাসা অবশিষ্ট নেই।
অথবা গৃহের থেকে ভুল বহির্গত কোনো শিশু
হারিয়ে গিয়েছে পথে, জানে না সে নিজের ঠিকানা।
___________________________________________
সময়ের সাথে এক বাজি ধরে

সময়ের সাথে এক বাজি ধরে পরাস্ত হয়েছি ।
ব্যর্থ আকাঙ্খায়, স্বপ্নে বৃষ্টি হয়ে মাটিতে যেখানে
একদিন জল জমে, আকাশ বিস্বিত হয়ে আসে
সেখানে সত্বর দেখি ,মশা জন্মে; অমল প্রতূ্ষে
ঘুম ভেঙ্গে দেখা যায় ; আমাদের মুখের ভিতর
স্বাদ ছিল, তৃপ্তি ছিল জে সব আহার্য প’চে
ইতিহাস সৃষ্টি করে; সুখ ক্রমে ব্যথা হয়ে উঠে ।
অঙ্গুরীয় নীল পাথরের বিচ্ছুরিত আলো
অনুষ্ণ ো অনির্বাণ , জ্বলে যায় পিপাসার বেগে
ভয় হয় একদিন পালকের মত ঝরে যাব ।
____________________________________
একটি উজ্জ্বল মাছ

একটি উজ্জ্বল মাছ একবার উড়ে
দৃশ্যত সুনীল কিন্তু প্রকৃত পস্তাবে স্বচ্ছ জলে
পুনরায় ডুবে গেলো — এই স্মিত দৃশ্য দেখে নিয়ে
বেগনার গাঢ় রসে আপক্ক রক্তিম হ’লো ফল |

বিপন্ন মরাল ওড়ে, অবিরাম পলায়ন করে,
যেহেতু সকলে জানে তার শাদা পালকের নিচে
রয়েছে উদগ্র উষ্ণ মাংস আর মেদ ;
স্বল্পায়ু বিশ্রাম নেয় পরিশ্রান্ত পাহাড়ে পাহাড়ে ;
সমস্ত জলীয় গান বাষ্পিভূত হ’য়ে যায়, তবু
এমন সময়ে তুমি, হে সমুদ্রমত্স্য, তুমি…তুমি…
কিংবা, দ্যাখো, ইতস্তত অসুস্থ বৃক্ষেরা
পৃথিবীর পল্লবিত ব্যাপ্ত বনস্থলী
দীর্ঘ-দীর্ঘ ক্লান্তশ্বাসে আলোড়িত করে ;
তবু সব বৃক্ষ আর পুষ্পকুঞ্জ যে যার ভূমিতে দূরে দূরে
চিরকাল থেকে ভাবে মিলনের শ্বাসরোধী কথা |
__________________________________________
তুমি যেন ফিরে

তুমি যেন ফিরে এসে পুনরায় কুণ্ঠিত শিশুকে
করাঘাত ক’রে ক’রে ঘুম পাড়াবার সাধ ক’রে
আড়ালে যেও না ; আমি এত দিনে চিনেছি কেবল
অপার ক্ষমতাময়ী হাত দুটি, ক্ষিপ্র হাত দুটি—
ক্ষণিক নিস্তারলাভে একা একা ব্যর্থ বারিপাত |
কবিতা সমাপ্ত হতে দেবে নাকি? সার্থক চক্রের
আশায় শেষের পঙক্তি ভেবে ভেবে নিদ্রা চ’লে গেছে |
কেবলি কবোষ্ণ চিন্তা, রস এসে চাপ দিতে থাকে |
তারা যেন কুসুমের অভ্যন্তরে মধুর ঈর্ষিত
স্থান চায়, মালিকায় গাঁথা হয়ে ঘ্রাণ দিতে চায় |
কবিতা সমাপ্ত হতে দাও, নারী, ক্রমে—ক্রমাগত
ছন্দিত ঘর্ষণে, দ্যাখ, উত্তেজনা শির্ষ লাভ করে,
আমাদের চিন্তাপাত, কসপাত ঘটে, শান্তি নামে |
আড়ালে যেও না যেন, ঘুম পাড়াবার সাধ ক’রে |
_________________________________________
কবিতা বুঝিনি আমি

কবিতা বুঝিনি আমি ; অন্ধকারে একটি জোনাকি
যত্সামান্য আলো দেয়, নিরুত্তাপ, কোমল আলোক |
এই অন্ধকারে এই দৃষ্টিগম্য আকাশের পারে
অধিক নীলাভ সেই প্রকৃত আকাশ প’ড়ে আছে—
এই বোধ সুগভীরে কখন আকৃষ্ট ক’রে নিয়ে
যুগ যুগ আমাদের অগ্রসর হয়ে যেতে বলে,
তারকা, জোনাকি—সব ; লম্বিত গভীর হয়ে গেলে
না-দেখা গহ্বর যেন অন্ধকার হৃদয় অবধি
পথ ক’রে দিতে পারে ; প্রচেষ্টায় প্রচেষ্টায় ; যেন
অমল আয়ত্তাধীন অবশেষে ক’রে দিতে পারে
অধরা জ্যোত্স্নাকে ; তাকে উদগ্রীব মুষ্টিতে ধ’রে নিয়ে
বিছানায় শুয়ে শুয়ে আকাশের, অন্তরের সার পেতে পারি |
এই অজ্ঞানতা এই কবিতায়, রক্তে মিশে আছে
মৃদু লবণের মতো, প্রশান্তির আহ্বানের মতো |
_____________________________________
করবী তরুতে

করবী তরুতে সেই আকাঙ্ক্ষিত গোলাপ ফোটে নি |
এই শোকে ক্ষিপ্ত আমি ; নাকি ভ্রান্তি হয়েছে কোথাও?
অবশ্য অপর কেউ, মনে হয়, মুগ্ধ হয়েছিল,
সন্ধানপর্বেও দীর্ঘ, নির্নিমেষ জ্যোৎস্না দিয়ে গেছে |
আমার নিদ্রার মাঝে, স্তন্যপান করার মতন
ব্যবহার ক’রে বলেশিহরিত হৃদয়ে জেগেছি |
হায় রে বাসি না ভালো, তবু এও ধন্য সার্থকতা,
এই অভাবিত শান্তি, মূল্যায়ন, ক্ষিপ্ত শোকে ছায়া |
তা না হ’লে আস্বাদিত না হবার বেদনায় মদ,
হৃদয় উন্মাদ হয়, মাংসে করে আশ্রয়-সন্ধান |
অখচ সুদূর এক নারী শুধু মাংস ভোজনের
লোভে কারো কাছে তার চিরন্তন দ্বার খুলেছিলো,
যথাকালে লবণের বিস্বাদ অভাবে ক্লিষ্ট সেও |
এই পরিনাম কেউ চাই না, হে মুগ্ধ প্রীতিধারা,
গলিত আগ্রহে তাই লবণ অর্থাৎ জ্যোৎস্নাকামী |

হাংরি জেনারেশন: কবি মলয় রায়চৌধুরীর ২২টি কবিতা

শুদ্ধ চেতনার রহস্য

ঠিক আছে, লাফাও
অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম কাচের জানালা খুলে কুড়ি তলা থেকে
বাতাসে ঝাঁপাও তুমি টাঙাইল আঁচল উড়িয়ে
শূন্যে ভাসবে কালো ঢাল এলোকেশ
দু পায়ে আচেনা নাচে পৃথিবীর রঙিন মাটিতে
নেমে এসো তুমি
তখন খামচে দেখো হাওয়ার শরীর কীরকম
খেলবে তোমাকে নিয়ে ওলোট-পালোট
আমার পায়ের কাছে পড়ে তুমি ছত্রখান হও
খণ্ড-বিখণ্ড হাড় থ্যাঁতা মাংস নাড়িভুঁড়ি সব একাকার
ঠোঁট যোনি উরু নাভি পাছা স্তন আলাদা অস্তিত্ব নিয়ে
সৌন্দর্য বিমূর্ত ক্বাথে মাছির খোরাক হবে তুমি

সব জড়ো করে তবু তুমি নও
তুমি সে-সময়ে রৌদ্রে ভাসমান
বুঝেছিলে মিথ্যে এই প্ররম্ভিক অধঃপতন ।

২১ আষাঢ় ১৩৯২

-----------------------------------------------------------------------------


শিল্পোন্নয়ন

এ কী তুমি এইখানে পাগলাগারদে
পায়েতে শেকলবাঁধা নেয়ারের খাটে
উদোম উলঙ্গ শুয়ে আছো চুলে জট
নোংরা নক বেড়ে গেছে দুচোখে ঢুলুনি
সারাঘর বমি মুত পায়খানা ভরা
ভাতমাখা এনামেল থালা এককোণে
শরীর ধোওনি জলে নেমে কতদিন
চেনাই যায় না এককালে পাঁচতারা
হোটেলে নেচেছ নাভি নিতম্ব কাঁপিয়ে

আরেকবার সুস্হ হও শুভ্রা রায়
নাচব সকলে তুর্কি গাঁজা-ভাঙ টেনে
হাড়িয়া মহুল খেয়ে ফিরিঙি আদলে
উঠে এসো সুর্মা চোখে লুপুঙগুটুতে
বেবাক দুনিয়া যায় জাহান্নামে যাক ।

২১ শ্রাবণ ১৩৯২

---------------------------------------------------------------------------


বিজ্ঞানসন্মত কীর্তি

ফ্যান টাঙাবার ওই খালি হুক থেকে
কন্ঠে নাইলন দড়ি বেঁধে ঝুলে পড়ো
কপাট ভেজিয়ে দরোজার চুপিসাড়ে
উঁচুতানে রেডিও চালিয়ে তাড়াতাড়ি
শাড়ি শায়া জামে খুলে টুলের ওপরে
দাঁড়িয়ে গলায় ফাঁস-রশি পরে নিও
সারারাত অন্ধকারে একা ঝুলে থেকো
চোখ ঠিকরিয়ে জিভ বাইরে বেরোনো
দুপাশে বেহঁশ দুই হাত আর স্তন
জমাট ষোড়শি শূন্য পায়ের তলায়
পৃথিবীর ধরাছোঁয়া ছাড়িয়ে যেখানে
বহু পুরুষের ঠোঁটে আদর খেয়েছ
সে-শরীর ছুঁতে ভয় পাবে তারা আজ

দোলো লাশ নামাবার জন্য আছি আমি ।

১৯ শ্রাবণ ১৩৯২

---------------------------------------------------------------------------


সুফিয়ানা

এ কেমন ক্রিমতোলা বাংলায় কথা কোস তুই
যে ভেলকিবাজ রোদের ভয়ে ঝরে পড়া শিউলিফুলগুলো
পাখিদের রোমান্টিক গানকে নার্ভাস করে তোলে
যেন হাঁ-মুখে নার্সের থার্মোমিটার

দোলের দিন ডেকে-ডেকে হাঁপানি ধরে গেল কোকিলটার
আসলে তোর কেন মতামতহীন হবার আধিকার নেই
একটা হ্যাঁ-এর সঙ্গে একটা না মিশিয়ে তখনই জানা যায়
যখন প্রেমের ক্লাইম্যাক্সে মাটির সঙ্গে আমি যোগাযোগ হারাই
শাঁতার কাটবার মতন তোর গভীর টলটলে সংলাপে
যে-দিন জিরে-জিরে করে কুচোনো বিদ্যুতের সবুজ জোনাকি
ঘোড়াহিন রেসের মাঠে তোকে ঘিরে বেশরম হ্রেষা হয়ে উড়বে
ইরানি হরফে তোকে প্রেমপত্র লিখে রাখবে বটগাছের শেকড় ।

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০১

----------------------------------------------------------------------------


দালাল

এ কী কুলনারী তুমি জাহাজঘাটায় দেহ বেচতে এসেছো
লুঙি-পরা পানখোর দালাল রাখোনি
সাদাপোষাকের কবি শরীর ঝাঁঝরা করে দেবে
শাঁখা-নোয়া খুলে তারা দুহাত হিঁচড়ে টেনে তুলবে লরিতে
লকাপে ল্যাংটো মাঝরাত.....সে-সময়ে গেয়ো তুমি রবীন্দ্রসংগীত

ছিহ কুলখুকি তুমি সবায়ের আদর কুড়োও
যারতার সাথে গিয়ে যেখানে-সেখানে শুয়ে পড়ো
চারিদিকে কটাচোখ ধ্রুপদী জোচ্চোর সব নজর রাখছে মনে রেখো

আমি তো স্ট্রেচারবাহী কিছুই করতে পারব না
হয়তো টিফিনবাক্সে এনে দেব রুটি আর আলুজিরে ভাজা
গান শোনাবার মাঝে ঝুঁকে-ঝুঁকে পয়সা কুড়োবো
ভোর হলে গঙ্গার পাড়ে তুমি দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে বমি কোরো
হাসপাতালেতে পাবে বেডপ্যান গ্লুকোজ বোতলে জল
তালচিটে বিছানায় পাশে শোয়া ঘুমন্ত কুকুর ।

১৭ অঘ্রাণ ১৩৯২


----------------------------------------------------------------------------


বজ্রমূর্খের তর্ক

আজকে শুক্কুরবার । মইনে পেয়েচি । বোধায় শরতকালের পুন্নিমে ।
পাতলা মেঘের মধ্যে জোসনা খেলচে । মাঝরাত । রাস্তাঘাট ফাঁকা ।
সামান্য টেনিচি তাড়ি । গাইচি গুনগুন করে অতুলপ্রসাদ ।
কোথাও কিচ্ছু নেই হঠাত নেড়ি-কুকুরের দল
ঘেউ ঘেউ করে ওঠে । তাড়া করে । বেঘোরে দৌড়ুতে থাকি ।
বুঝতে পারিনি আগে । রাজপথে এসে হুঁশ হয় ।
মাইনেটা পড়েচে কোথাও হাত থেকে । কী করে ফিরব বাড়ি ?
কেধ তো বিশ্বাস করবে না । ভাববে খেলেচে রেস,
গিয়েচে মাগির বাসা, বন্ধুদের সাথে নিয়ে বেলেল্লা করেচে ।
বন্ধুবান্ধব কেউ নেই । রেসও খেলি না কতকাল ।
অন্য স্ত্রীলোকের খোলা-বুকে হাত শেষ কবে দিয়েচি যে
ভুলে গেচি । জানি না বিশ্বাস করে না কেউ কেন ।
আমার তো মনে হতে থাকে, যা করিনি সেটাই করিচি বুঝি ।
যা কইনি, সেকথা বলিচি । তাহলে এ পুন্নিমের মানে ?
কেন এই মাইনে পাওয়া? কেন গান ? কেন তাড়ি ?

আবার ঢুকতে হবে রামনোংরা গলির ভেতরে । নির্ঘাত কুকুরগুলো
গন্ধ শঁকে টের পাবে । ছেঁকে ধরবে চারিদিক থেকে ।
যা হবার হয়ে যাক । আজ শালা এস্পার কিংবা ওস্পার ।

২৭ আষাঢ় ১৩৯২


---------------------------------------------------------------------------

প্রিয়তমার নিলাম

বিশল্যকরণী বলে কিছু নই শেষ ওব্দি লক্ষ্মণের লাশ
রাবণের মর্গে পড়ে ভেটকে উঠেছিল
ভিড়ের দড়ির টানে
খর্ব অপুষ্ট জরাক্লিষ্ট মুখে কাঠের জগড়োনাথো ফিরেছে স্বস্হানে
ওরকম মুখ বুজে থাকব বলে আসিনি এখানে আমি
গন্ধমাদন কাউকে ল্যাজ তুলে আনতে হবে না
কেননা ভূমিষ্ঠ হয়েই মাটি কামড়ে ধরেছি কষদাঁতে
শীতকালে কেন ফিকে ন্যাপথালিনের গন্ধ মানুষীর নিশ্চুপ স্তনে
যে-মুখে রেখেছি হুল লেহনে বোটকা স্মৃতি বৃক্কে নেমে যাবে
ফেরারির অগ্নিচোখ অর্জন করেছি শ্রমে
বল্লম ধরার আগে আঙুলের খাঁজ হেজেছিল
বাতাসে বাবরি উড়বে চ্যাঁচাব দুখাঁধ তুলে
বুকের ওপরে দুই হাতা ঘুষি আছড়ে বলব বারবার
অগ্নি সংযোগ করো শান্তিভঙ্গ হোক ছারখার করো
ক্রন্দনরত কারা গুঁড়ি মেরে এলোচুলে ঘোর অন্ধকারে
শানাচ্ছে কুখরির ডগা উল্কাপাথরে ঘষে একটানা সুরে
টিকটিকিদের ল্যাজ আছড়াবার ক্ষীণ শব্দ
ঝড়ের ধুলোয় নাকে জ্বালা ধরে
মুখেতে রুমাল বেঁধে নিঃশব্দে ঘোড়া থেকে নামি

যে-রকম কথাছিল আবার এসেছি আমি নিলামের দাক দিতে
এইবার সবচে বেশি দাম ধরে দেব
মাত্র দু-পাঁচশো নয় কিংবা মাসখানেকের জন্যে ঘানির মজুরি
তুমি ধ্বংসধ্বনি খুকি
ভবিষ্যৎ থকথকে হারামরক্তে ডুবে আছে ।

১১ বৈশাখ ১৩৯২


---------------------------------------------------------------------------

বাজারিণী

ত্রিশ বছরের পর এলে তুমি । তোমার আদুরে ভাষা পালটে গিয়েছে
বারবার । জানি তুমি শুভ্রা রায় নও । ওরকমভাবে একঠায়ে
সারাদিন মাথানিচু করে বসে থাকো । আমার চুলেতে পাক
ধরে গেছে । শেখাও তোমার ভাষা এইবার । দেখি কীরকম
ঠোঁট নড়ে । নাভি খিল-খিল কেঁপে হেসে কুটি হয় । যুবকেরা
ঘিরে থাকে বহুক্ষণ তোমায় আড়াল করে । কিসের কথা যে এতো হয়
কিছুই বুঝি না । অন্তত কুড়ি বছরের ছোট হবে তুমি ।
জানি না কাদের জন্যে অন্ন আনাজ সংগ্রহে আজ এলোচুলে
নেমেছ বাজারে । লুবাতাসে রোদে পুড়ে কালো হয়ে যাবে শেষে ।
তুমুল বৃষ্টির মধ্যে কী্যাবে বাসায় ফেরো ? ওই যুবকেরা
ছাতা ধরে মাথার ওপরে? বাড়ি ফিরে ভিজে চুল বোধহয় শোকাও একা ।
সকালে কি রান্না করে আসো ? সেগুলোই রাতে খাও?
শরীর খারাপ হলে কারা দ্যাখে? কে কাপড় কাচে?

আমার সন্ত্রাসবাজি রাহাজানি লুটমার থেকে জানি তোমার দুনিয়া
আলাদা একদম । তোমাকে নিজের নাম বলতে পারি না আমি ।
যদি ঘেন্না করো । জেনে যাও কী-কী করি, ভয় পাও ।
কতদিন ইচ্ছে হয় সামান্য ইশারা করে আমার দলের লোকেদের
তোমাকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিতে বলি ।
দাঁড়াবে আমার সামনে এসে তুমি । বলবে, 'আমাকে যেতে দিন' ।

২৮ আষাঢ় ১৩৯২


------------------------------------------------------------------------------


বাকদানো

তোদের তো বলিছিলুম বাবা কিন্তু তোরা গা কল্লিনে
তবলা-বাজিয়ের কানে আওয়াজের আগেই য-ভাবে বোল ফোটে
অ্যাগবারে তেমনিই য-দিকে মাথা করে শুই সে-দিকেই কেন সূয্যি ওঠে জানিনা

আমাদের যুধিষ্ঠির, সেই যে, পাশাখেলার গ্র্যাণ্ডমাস্টার
বেতলা ফরেস্টে দ্রোণাচার্যের সেমিনারে অর্জুনকে ধাতানি দিয়েছিল
'পা নাচিয়ে কক্ষুনো নাচবিনে, সব্বোদা বাতাস নাড়িয়ে নাচবি'

তোদের ওদিকটায় তো সভ্যতা মানেই শহর, কী, ঠিক বলিচি না?
জ্বরের ঘোরে-বলা প্রলাপগুলো খানিক পরেই দেখবি তথ্য হয়ে গেচে---
কাব্যি করে বলতে হয়, 'ওগো এ যে গোঁজবঙ্গের পালতোলা শামুক ভাসিয়েচো'

যখুন দুঃখকষ্ট চেপে যেতে শেখার বয়েসে পৌঁছোলুম, অ্যাঁ
ঘুমন্ত অবস্হায় যে-পাখিটা বিপদে পড়েচে তার মাঝরাতের ডাকে
দেহের বিতর্কিত জায়গায় হাত দিয়ে ফেলার ভয়ে আমি তো থরহরি

বিড়ির শেস-ফুঁকের আয়েস টেনে মেয়েটি যখুন পোনয় নিবেদন কল্লে
একাধটা অঠ্গকে বিশ্বেস করা মুশকিল হয়ে পড়েছিল রে
তা, সবাই তো আর সবায়ের ব্যথার গন্ধ টের পায় না

এ-বাড়ির ঘড়িগুলোকে দ্যাখ, বড্ড অধীর, সবুর করতে পারে না;
কী করি ? আমি তো পাহাড় থেকে ঝাঁপ-দেয়া ঝর্ণার ফূর্তি দুমুঠোয় পুরে
মৌমাছিদের রানিটাকে নিয়ে বরযাত্রীদের সঠ্গে চুপচাপ কেটে পড়লুম...

১১ আগস্ট ২০০০


----------------------------------------------------------------------------


পরবর্তী সর্বনাশ

পাহাড়ের বাঁকে ট্রেন দেখা গেছে যাও
এইবালা ঘুমে অচেতন গৃহস্হালি
ফেলে ছোটো মাথা পেতে দিতে রেলপথে
এরপর রাতে আর কোনো ট্রেন নেই
পিষে কেটে ছটুকরো হয়ে যাও তুমি
শাঁখা পলা গুঁড়ো হয়ে মিশুক মাটিতে
তলপেটে রাখা ভ্রুণ নিসর্গে ফিরুক
ত্রেনের পয়ার ছন্দে নিজেকে ভুলিয়ে
তোলপাড় করে দাও সুখের সংসার
ভয় দুঃখ শোক গ্লানি দিয়ে বন্ধ করো
অমল আনন্দ শেষ হোক ভাঙা ঘুমে

দুহাত বাড়িয়ে সারারাত রেলপথ
শিশির উপেক্ষা করে তোমার শরীর
পাবে বলে ঠায় জেগে আছে সন্ধে থেকে

২০ শ্রাবণ ১৩৯২


---------------------------------------------------------------------------------

স্থানিকতা

যে-মানুষীর হনুমানের ঢঙে চার হাতে জড়িয়ে ধরার তল্পিতল্পা ছিল
তার সঙ্গেই তো ধুপকাঠি-গেঁথা পাকা-কলার কুচকুচে পিঁপড়ে পাড়ায়
অন্ধকার দিয়ে নিজের বদূরত্বটুকু বেঁধে রাখতে চাইছিলুম

ওকে পেয়েছিলুম ছোটবেলার চান-করার হল্লায় তৈরি বিয়েবাসরে
মেঘ থেকে বৃঢ়্টিফোঁটা খুঁটেখুঁটে ঘাম জমিয়ে তুলত মুখময়

গৌড়ের সেসব ভুলভাঙা রাজপথ তো এখন অচেনা খেতসবুজ গ্রাম
মিটকি মেরে পড়ে আছে আলোর ঝলকানিতে টোলখাওয়া বিদ্যুতে
কেননা ইতিহাসে ঢুকতে গিয়ে চৌকাঠে ঘা খেয়ে ওর মাথা ফেটে গেছে

হয়তো একদিন তিলোত্তমাদের ফেলে দেয়া তিলগুলো জড়ো করে ফেলবে
আর চিতার ওপর হাসতে-হাসতে উঠে বসবে আগুনের মুখোশপরা গৌড়

কলকাতা ৬ আগস্ট ২০০১


-------------------------------------------------------------------

উৎপাদন পদ্ধতি

বিদ্যুতের তার ঝড়ে ছিঁড়ে ঝুলে আছে
এতো কী ভাবছো বাজে সারাদিন ধরে
যাও ছুঁয়ে দাও গিয়ে মাথা ঠিক রেখে
মুঠোর ভেতরে নাও তীব্র জ্যোতিরেখা
একটা ঝলকে স্নেহ রক্তে ঢুকে যাবে
দেখে নাও মাটিতে পা থাকা কত ভুল
মাটি ও তোমার মাঝে দরকার ছিল
হাকুচ আড়াল কোনো হিজড়ে তৈজস
কীরকম জ্বলে ওঠো দেখতে চেয়েছি
শাদা ত্বক এক লহমায় পুড়ে কালো
চোখ থেকে চাউনি উধাও জানুদেশ
থিরথির কেঁপে ছিটকে ঘাসের মধ্যে
পড়ে তুমি বারকয় নড়েচড়ে স্হির
শেষবার তারপর ঝুঁকে চুমু খাবো ।

২১ শ্রাবণ ১৩৯১


---------------------------------------------------------------


ধনতন্ত্রের ক্রমবিকাশ

শেষরাতে পাশ থেকে কখন উঠেছ
চুপচাপ আলমারি ভেঙে কী অ্যাসিড
ঢকঢক করে গিলে মরছ এখন
আলজিভ খসে গেছে দুগালে কোটর
মাড়িদাঁত দেখা যায় কষেতে বইছে
গাঢ় ফেনা হাঁটুতে ধরেছে খিঁচ ব্যথা
চুল আলুথালু বেনারসি শাড়ি শায়া
রক্তে জবজবে মুঠোতে কাজললতা
শোলার মুকুট রক্ত-মাখা একপাশে
কী করে করেছ সহ্য জানতে পারিনি
শুনতে পাইনি কোনো চাপা চীৎকার
তবে কেন সায় দিয়েছিলে ঘাড় নেড়ে
আমি চাই যেকরেই হোক বেঁচে ওঠো
সমগ্র জীবন থাকো কথাহীন হয়ে

২২ শ্রাবণ ১৩৯১


--------------------------------------------------------------------

আমি ভঙ্গুর হে

আমি যে-নাকি গাইডের কাছে ইতিহাস-শেখা ফোসকা-পড়া পর্যটক
ছায়ায় হেলান দেয়া বাতিস্তম্ভের আদলে গিসলুম পিতৃত্ব ফলাবার ইসকুলে
জানতুম যতই যাই হোক ল্যাজটাই কুকুরকে নাড়ায় রে

আমি যে-নাকি প্ল্যাটফর্মে ভবিষ্যভীতু কনের টাকলামাথা দোজবর
বস্তাপ্রতিম বানিয়ার বংশে এনেছিলুম হাইতোলা চিকেন-চাউনি
কাদাকাঙাল ঠ্যাঙ থেকে ঝরাচ্ছিলুম ঘেসো ঝিঁঝির সাম্ভানাচ

আমি যে-নাকি ফানুসনাভি ব্যাঙ-থপথপে শুশুকমাথা আমলা
মাটিমাখা নতুন আলুর চোখে-দেখা দুটাকা ডজন রামপ্রসাদী জবা
চাষির ঢঙে বলদ অনুসরণ করে পৌঁছেছিলুম বিধানসভার কুয়োতলায়

আমি যে-নাকি পোলকাফোঁটা পুঁইফুলে দুভাঁজ করা হেঁইয়োরত বাতাস
ঢেউ-চাবকানো ঝড়ে যখন বঁড়শি-খেলা পুঁটির পাশে ভাসছি
তখন বুঝলি লম্বালম্বি করে কাটা কথাবাত্রার লাটিমছেঁড়া ঘুড়ি

আমি যে-নাকি ভূতলবাহী আওয়াজ-মিস্ত্রি হলদে-ল্যাঙোট বাবুই
চোখে-চোখে শেকল-আঁকা ভিড়ের মধ্যে এঁদো বিভাগের কেঁদো
চিংড়ি-দাড়া আঙুল দিয়ে খুলছি বসে জটপাকানো মুচকি-দাড়ির হাসি

২ জুন ১৯৯৮

----------------------------------------------------------------------------

আরেকবার উহুরু

কালো কাপড়ের খোল মুখেতে পরানো, দুই হাত
পিছমোড়া করে বাঁধা, দাঁড়িয়ে রয়েছি পাটাতনে ।
জল্লাদের ঘামের তিতকুটে গন্ধে ভোরের বাতাস থম‌---
সময় গুনছে কারা ? ডাক্তার পুলিশ জজ ওয়ার্ডেন ? নাকি কেউই গোনে না !

আচমকা নেমে যাব ঝুপ শব্দে যেখানে ঘোলাটে অন্ধকারে
পোষা হয় ঘামলোনা নোংরা ইতিহাস ;
কাঁপতে থাকবে দড়ি, প্রথমে খুবই ঘনঘন,
দুর্বল ঝাঁকুনি, তারপর স্হির, বোবা চিৎকারে
ওভাবে যেখানে কবি খুনি নেমে গেছে বহুবার
আমিতো উঠেছি আজ সেইখান থেকে জ্যান্ত হয়ে

এ-ই একমাত্র ওঠা । এছাড়া উথ্থান নেই শব্দ-দানবের
যাদের পায়ের কাছে পড়ে থাকে বিধ্বস্ত ভূগোল

মরার জন্যে যারা জন্মায় আমি সেই ধর্মবংশ
বাঁচিয়ে রাখার জন্যে বারবার ঝুলি না ফাঁসিতে ।

১৯ আষাঢ় ১৩৯২

----------------------------------------------------------------------

সব গর্তই ঊর্ধমুখীন, আহা

আজেবাজে স্বপ্ন যাতে না দেখে ফেলি
তাই স্বপ্ন পাহারা দিচ্ছি এমন এক ভোরে

জলের ঢেউয়ে গড়া অহংকারের পাঁচিল তুলে
ছুঁচ-সুতো দিয়ে লেখা গল্পের শহিদটাকে

খুঁজে পেলুম জাহাজডুবির লাশেদের সভায়
সে একখানা বোড়ে ঘেরা দাবার রাজা বটে

অনেক গাছ তো হয়ে ওঠে কিন্তু কিচ্ছুটি করে না
পালানো বোউকে ফেরত নায়া স্বামীর ঢঙে

যে-উপমা কবিতার লাইনে আটকা পড়েছে
যেন সধবার শব সাজাবার বিউটিশিয়ান

যাঁর কারবার অতীতের বর্তমানটুকু নিয়ে
দিব্বি থাকেন বাকোয়াসের খোশমেজাজি গুলগল্পে

কলকাতা ২১ জুন ২০০১


--------------------------------------------------------------------------

অধিবাস্তব

বধির যেভাবে নাড়ির স্পন্দন শোনে
মাছেদের দেখা স্বপ্নে ভারাতুর নদীতে ডোরার নকশা পালটাতে নেমেছিল জেব্রা
টুঁটি ছেঁড়ার রক্তাক্ত মুহূর্তে
নিহতের মায়ের প্রসব-বেদনা ছড়িয়ে পড়েছিল ওর রক্তের ব্যথায়
দুর্গা-প্রতিমার না-আঁকা চোখ দিয়ে
ও দেখল অতল মৃত্যু আর অসুস্হ আলো
অস্তসূর্য তখন মানুষের ঘড়ির সঙ্গে সময় মিলিয়ে নিচ্ছে
স্বপ্ন দেখার জন্যে প্রত্যেকে যে-যার অন্ধকার গড়ে নিচ্ছিল
কিন্তু বাড়িতে সবাই ভালো আছে শুনে মনখারাপ হয়ে গেল রোগিনীর
ওই নদীতেই তিনশো বছর আগে
বিদেশি খুনি ফেলে গেছে তার রক্তে-ভেজা ভুরু
আজ আর ঢেউয়ে বিজয়ের আহ্লাদ নেই জয়ের আছাড়টুকু আছে
নিজের তাপেই নিজে শুভেচ্ছায় জ্বলেপুড়ে গেল
জেব্রা ওর মুখের দিকে এক পলক তাকিয়ে
নষ্ট করে দিয়েছিল সবুজ কৌমার্য
ফুসফুস থেকে আকাশ ছিঁড়ে নিয়ে গিয়েছিল মর্গের মুদ্দোফরাস
ওর দেহে কাদার সিন্দুকে রাখা কেঁচোদের অলংকার
ওর ছিল পাগলের ওড়ানো ঘুড়ি
পড়ে আছে প্রজাপতিদের ফ্রিলদেয়া শালুকের কোঁচকানো জলে
ওখানেই কেউটে যুবতী স্ট্রিপটিজ করে
ফেলে গিয়েছে ধবধবে খোলস
অথচ সে-মেয়ে আজীবন নিজের স্তনদুটিকে রাখতে চেয়েছে দুধহীন
এখন কেউই বলতে পারছে না
কবে থেকে দণ্ডভোগ শুরু হবে

কেঁচো-গেঁথা বঁড়শি
মানুষ ও মাছের সত্যকে আলাদা করে দিয়েছিল

১৬ জানুয়ারি ১৯৯৯

-----------------------------------------------------------------------------

প্রস্তুতি

কে বললে বিদ্ধস্ত হয়েছি ? দাঁত-নখ নেই বলে? ওগুলি কি খুবই
জরুরি ? আবাঁট চাকুর মেধা তলপেট লক্ষ করে বিদ্ধ করে দিয়েছি সেসব
এরই মধ্যে ভুলে গেলেন কেন? পাঁঠার মুখের কাছে
পাতাসুদ্ধ কচি এলাচের গোছা, সেই যে সেই সব কাণ্ড ? ঘৃণাশিল্প ক্রোধশিল্প
যুদ্ধশিল্প ! পিছমোড়া মুখবাঁধা যুবতী সানথাল: গোলাপি ফুসফুস ছিঁড়ে
কুখরির ধারালো আনচান---সেইসব ?
হৃৎমাংসে রক্তমেখে উঠে-আসা চাকুর গরিমা ? আমার তো গান বা
সংগীত নেই ; কেবল চীৎকার; যতটা হাঁ করতে পারি
নির্বাক জঙ্গলের ভেষজ সুগন্ধ; ঘুঁজি পরিসর কিম্বা হারাম সন্ন্যাস
বলিনি 'জিভ দিন জিভ গোঙানি ফেরত নাও
দাঁতে দাঁত দিয়ে সহ্য করার ক্ষমতা' । নির্ভীক বারুদ বলবে:
'মূর্খতাই একমাত্র শিক্ষণীয়' । উদারহস্ত নুলো
দাঁতে ছুরি নিয়ে আমি লাফিয়াছি জুয়ার টেবিলে, তোমরা ঘিরে ফ্যালো
ছেঁকে ধরো রাবার বাগিচা কফি চায়ের বাগান থেকে
গামবুটে স্বচ্ছন্দ চাকুরিসুদ্দু এসো কে কোথায় আছো
জরাসন্ধের পুং যেভাবে বিভক্ত হয় হীরকের দ্যুতি ছলকে ওঠে
হাত-পা চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর জ্ঞানগমি্য বলে কিছু নেই
বাঁশির মতন ধরে সিঁধকাঠি বাজিয়ে দেখেছি আমি অসুখে অভাবে
আপেল ত্বকের মোমরেণু মাখা ভঙ্গুর স্নেহ
সঙ্গমের আগে মাদি পিপীলিকা ডানা খুলে রেখে দেবে পাশে
আমিও উরুত চাপড়ে বিকল্প চীৎকার দিচ্ছি: পৃথিবীকে খালি করো
বেরও বের হও সর্বশক্তিমান
বান্দরের চুলকানিপ্রবণ চার হাতে শঙ্খ
চক্র পদ্ম গদা নিয়ে নিজের ঘামের নুনে লবণ-বিদ্রোহ হোক
বারুদ সুতলি ধরে বিস্ফোরণের দিকে তুমাকার স্ফুলিঙ্গ ছুটুক
সারা গায়ে অন্ধকার লেপড়ে এসো বাকফসলের কারবারি
কুকুরযুবার মনোমালিন্যে ভরা মাঝরাতে
কীটনাশকের ঝাঁঝে মজে থাকা ফড়িঙের রুগ্ন দুপুরে
ভূজ্ঞানসম্পন্ন কেঁচো উঠে আয়
চাকুর লাবণ্য আমি আরেকবার এ-তল্লাটে দেখাতে এসেছি ।

১৯ ফাল্গুন ১৩৯১


------------------------------------------------------------------------

মুরগির রোস্ট

পালক ফুলিয়ে ক্রোধে লড়ো মুর্গা, চাকুমালিককে খুশ করো
হুলেতে পরাগ মেখে ঝাপটাও ডানা
বলেওছি: দুহাত মুচড়ে নতজানু করে রাখো
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে মাদুর গুটিয়ে নেমে এসো ছাদ থেকে
বুটজূতো---রাইফেল---ঘুরন্ত বুলেট---চিৎকার

'বাড়ি নিয়ে চলো' বলে কেঁদে ওঠে পাশের হাজতে বন্ধ বৃদ্ধ কয়েদি
ছেড়ে দাও ছেড়ে দাও যেতে দাও বাড়ি যেতে দাও
ডিমের ওপরে বসে সিংহাসনে ঝিমোয় ডাহুক
অন্ধকারে গলা টিপে ধরো
লড়ো মুর্গা, মরো লড়ে, গর্জাও গুঙ্গার দলে ঢুকে

জিভেতে কাঁচের ফুলকি---নাচাচ্ছি বুকের পেশী
মাছের কানকো খুলে জলেতে কুয়াশা মিশিয়েছি
কড়ে আঙুলের টুকরো মোড়া ছিল গোলাপি কাগজে
দুহাতে দুচোখ ঢেকে কে কাঁদে হাউ-হাউ করে জেলখানায়
নারী না পুরুষ আমি বুঝতে পারি না
এ-নাও চোখের পাতা---ফুঁ দাও বাঁহাতে রেখে
শিশিরে ফণার পাঞ্জা খোলো
মেয়েলি হিসির শব্দে তলপেট কাঁপে জাত-গোখরোর
রক্ত গড়ালে নাকে তুলো গুঁজে শ্মশানে পাঠাও
রাস্তায় পড়ে থাকবে চটিজুতো ভাঙা-ইঁট ঠ্যাঙ টেনে ছেঁড়া পাতলুন

ঝড়ের সমুদ্র থেকে যে-ঢেউ খাবলে তুলে মেখেছি দু-পায়ে
সে-নব বর্ণমালা থেকে আজ হরফ এনেছি

১২ চৈত্র ১৩৯২

----------------------------------------------------------------------------

দুটি বিশ্ব

আমরা তো জানি রে আমরা সেরে ওঠার অযোগ্য
তাই বলে বৃষ্টির প্রতিধ্বনিতে ভেজা তোদের কুচুটে ফুসফুসে
গোলাপি বর্যাতি গায়ে কুঁজো ভেটকির ঝাঁক সাঁতরাবে কেন

তোদের নাকি ধমনীতে ছিল ছাইমাখা পায়রাদের একভাষী উড়াল
শুনেছি অন্ধের দিব্যদৃষ্টি মেলে গাবদাগতর মেঘ পুষতিস
বগলে গুঁজে রাখতিস গাধার চিল্লানিতে ঠাসা রোজনামচা
আর এখন বলছিস ভোটদান তো দানবীর কর্ণও করেননি

কে না জানে শববাহকরাই চিরকাল অমর হয়েছে
ঔরসের অন্ধকারে কথা বলার লোক পেলি না বলে
ঘড়িঘরহীন শহুরে ওয়ান-শট প্রেমিকা খুঁজলি
কী রে তোদের কি ঠিক-ঠিকানা নেই না রক্তের দোষ
যে বলিপড়া আয়নায় চোপরদিন লোলচর্ম প্রতিবিম্ব পড়ে

ছি ছি ছি নিশ্বাস ফেলে সেটাই আবার প্রশ্বাস হিসেবে ফেরত চাস
আমি তো ভাবছিলুম তোরা সন্দেহ করার অধিকার প্রয়োগ করবি
তা নয় সারা গায়ে প্রাগৈতিহাসিক চুল নিয়ে ঢুং ঢুং তুলো ধুনছিস

শুভেচ্ছা রইল তোরা যেন দুঃশাসনের হাত দুটো পাস
যা দিয়ে ধোঁয়ার দুর্গে বসে ফুলঝুরির ফিনকি গুনবি

২৭ এপ্রিল ২০০০

-----------------------------------------------------------------------------

অন্নবিচার

মহিলাদের পোশাক পালটাবার মাংসল গন্ধে বুঁদ
যে-ঘরটায় এক ডিভোরসি বোলতাবধু ডিম পার্ক করেছেন
শহুরে পাখিদের ছ্যাঁচড়া জঞ্জালের ভজকট ভাষা ডানায় বয়ে
ভেতরে ঢুকে ঝোড়ো ঝড় নিজে হাতে দরোজা বন্ধ করে দিয়ে দ্যাখে
জোরকদমে চর্চা চলছে দিলদরিয়া ভালোবাসার ঘিজতাঘিজাং
যদিও ফাটলপ্রিয় ছারপোকারা নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল

যে-যার মতন ভালো বা খারাপ হবার স্বাধীনতার দরুন
ছাদ-উঁচু ওই ঘরের অ্যান্টিক পালঙ্কই শেষমেষ পেডিগ্রির খুঁত ধরে
কেননা ডক্টরেট-করিয়ে ছাত্রীদের জন্যে বরাদ্দ ধর্ষণের পারিতোষিক
ওই ঘরেই খেপে-খেপে বিলোনো হয় বুদবুদময় কণ্ঠস্বরে
অথচ অধ্যাপকবাবুর ঘিলু থেকে জোয়ারের বয়স কবেই খাল্লাস
বলো দিকিন ওরা কী-ই বা দু ছত্তর মলয় রায়চৌধুরী সম্পর্কে লিখবে

কলকাতা ৪ জুলাই ২০০২

----------------------------------------------------------------------------

ঘুণপোকার সিংহাসন

ওগো স্তন্যপায়ী ভাষা পিপীলিকাভূক মুখচোরা
ভূচর খেচর জলচর দাম্পত্যজীবনে তুষ্ট একশিঙা
নীলগাই বারাশিঙা চোরাকিশোরীর হাতে মূল্যবানপ্রাণী
স্হলে বিচরণকারী উদবিড়াল গন্ধগোকুল বিনোদিনী
শব্দগহ্বর খেয়ে নোকরশাহীর রাজ্য এনেছো এদেশে ।

২ ভাদ্র ১৩৯২

যেসব সহজ-বানান আমরা খুব সহজে ভুল করি-- ৮ম পর্ব

যেসব সহজ-বানান আমরা খুব সহজে ভুল করি-- ৮ম পর্ব

ভুল ------------------------------ নির্ভুল
অনুদিত -------------------------- অনূদিত
খাঁন ------------------------------ খান
প্রাণি ------------------------------ প্রাণী
নীম------------------------------- নিম
নিমন্ত্রন--------------------------- নিমন্ত্রণ
গাড়ী ----------------------------- গাড়ি
উল্লেখিত ------------------------- উল্লিখিত
অহংকার ------------------------- অহঙ্কার
উচ্চারন ------------------------- উচ্চারণ
হাঁসি------------------------------ হাসি
যশঃ ----------------------------- যশ
পদবী ---------------------------- পদবি
গ্যাঞ্জাম-------------------------- গ্যান্জাম
আরোহন ------------------------ আরোহণ
অবরোহন ----------------------- অবরোহণ
ঝঞ্জা----------------------------- ঝঞ্ঝা
ভয়ংকর ------------------------- ভয়ঙ্কর
লব্দ ------------------------------ লব্ধ
রাজী----------------------------- রাজি
ইষ্টার্ণ ---------------------------- ইস্টার্ন

ধানসিঁড়ি ------------------- ধানসিড়ি
ভূল ------------------------- ভুল
রবীঠাকুর ------------------- রবিঠাকুর
অঞ্জলী ---------------------- অঞ্জলি
গোধূলী --------------------- গোধূলি
ধূলো ----------------------- ধুলো
রুগ্ন ------------------------- রুগ্ণ
নিরব ----------------------- নীরব
দ্বীপান্বিতা -------------------দীপান্বিতা
নিরবতা -------------------- নীরবতা
আকাংখা/আকাঙ্খা --------- আকাঙ্ক্ষা
বিষন্ন ----------------------- বিষণ্ন
প্রবীন ---------------------- প্রবীণ
কল্যান --------------------- কল্যাণ
কন্ঠ ------------------------ কণ্ঠ
ঘন্টা ----------------------- ঘণ্টা
সত্ত্বা ----------------------- সত্তা
দন্ডাদেশ ------------------ দণ্ডাদেশ
রুপকথা ------------------- রূপকথা
খৃস্টাব্দ/খ্রিস্টাব্দ ----------- খ্রিষ্টাব্দ

ইতিমধ্যে ----------------------- ইতোমধ্যে
ইতিপূর্বে ------------------------ ইতঃপূর্বে
মূলতঃ -------------------------- মূলত
ক্রমশঃ -------------------------- ক্রমশ
পন্ডিত -------------------------- পণ্ডিত
ষ্টেশন --------------------------- স্টেশন
কৌতুহল ------------------------ কৌতূহল
মুহুর্ত ----------------------------- মুহূর্ত
ব্যাথা ---------------------------- ব্যথা
ভাঙ্গন ---------------------------- ভাঙন
নির্মান --------------------------- নির্মাণ
যন্ত্রনা ---------------------------- যন্ত্রণা
শূণ্য/শুন্য ------------------------ শূন্য
অবগুন্ঠন ------------------------ অবগুণ্ঠন
রেঁনেসা -------------------------- রেনেসাঁ
রেস্তোরা -------------------------- রেস্তোরাঁ
লক্ষী ----------------------------- লক্ষ্মী
সোনালী ------------------------- সোনালি
ইদানিং -------------------------- ইদানীং
পাহাড়ী -------------------------- পাহাড়ি

নিরস ---------------------------- নীরস
নিরোগ -------------------------- নীরোগ
পোষ্ট ----------------------------- পোস্ট
কোন ---------------------------- কোনো
কোন্ ---------------------------- কোন
খন্ডিত -------------------------- খণ্ডিত
জোৎস্না -------------------------- জ্যোৎস্না
ভবিষ্যত ------------------------ ভবিষ্যৎ
রেনু ----------------------------- রেণু
ভাঙ্গা ---------------------------- ভাঙা
বৈশাখি -------------------------- বৈশাখী
বাড়ী ---------------------------- বাড়ি
আচার্য্য -------------------------- আচার্য
বন্টন ---------------------------- বণ্টন
দেশি ---------------------------- দেশী
শ্রাবন --------------------------- শ্রাবণ
স্তব্দ ------------------------------ স্তব্ধ
প্রবাহমান ----------------------- প্রবহমান
মন্ডল ---------------------------- মণ্ডল
সৌন্দর্য্য ------------------------- সৌন্দর্য

নিরক্ত --------------------------- নীরক্ত
ভ্রাম্যমান ------------------------ ভ্রাম্যমাণ
নৈঃশব্দ -------------------------- নৈঃশব্দ্য/ নৈশব্দ
শাড়ী ---------------------------- শাড়ি
শ্রদ্ধাঞ্জলী------------------------ শ্রদ্ধাঞ্জলি
দক্ষিন --------------------------- দক্ষিণ
মাংশ ---------------------------- মাংস
মৌলভী ------------------------- মৌলবি
মৌসুমী -------------------------- মৌসুমি
লাবন্য --------------------------- লাবণ্য
ম্রিয়মান ------------------------- ম্রিয়মাণ
মাষ্টার --------------------------- মাস্টার
ধ্বস------------------------------ ধস
নক্সা ----------------------------- নক্শা
শালিখ -------------------------- শালিক
পূজো --------------------------- পুজো
মর্ত্য ----------------------------- মর্ত
বানিজ্য ------------------------- বাণিজ্য
ফার্ণিচার ------------------------ ফার্নিচার
চন্ডাল -------------------------- চণ্ডাল

(সাঃ) ---------------------------- (সা.)
ডঃ ------------------------------- ড.
মোঃ ------------------------------ মো.
মুমুর্ষ/মুমুর্ষূ ----------------------- মুমূর্ষু
আরবী---------------------------- আরবি
বাঙ্গালী/বাঙালী ----------------- বাঙালি
শোকগাঁথা ----------------------- শোকগাথা
(আঃ) ----------------------------- (আ.)
(দঃ) ------------------------------ (দ.)
(রাঃ) ----------------------------- (রা.)
(রহঃ) ----------------------------- (রহ.)
দু:খ ------------------------------- দুঃখ
ফার্ণ-------------------------------- ফার্ন
ষ্টেশনারী/ষ্টেশনারি --------------- স্টেশনারি
প্রচন্ড ----------------------------- প্রচণ্ড
প্রকান্ড ---------------------------- প্রকাণ্ড
জোনাকী -------------------------- জোনাকি
একাকি --------------------------- একাকী
উর্দূ -------------------------------- উর্দু
ডিগ্রী ------------------------------ ডিগ্রি

ভুল ------------------------------ নির্ভুল
জীবি ---------------------------- জীবী
ফেব্রুয়ারী ----------------------- ফেব্রুয়ারি
একাডেমী----------------------- একাডেমি
গ্রীক------------------------------ গ্রিক
লাঞ্চিত--------------------------- লাঞ্ছিত
ঘৃনা ------------------------------ ঘৃণা
গহীন ---------------------------- গহিন
যুগ্ন ------------------------------- যুগ্ম
বাঞ্চিত -------------------------- বাঞ্ছিত
অনাহুত--------------------------- অনাহূত
উচ্ছ্বাসিত ------------------------ উচ্ছ্বসিত
বাঁশরী ---------------------------- বাঁশরি
রিক্সা------------------------------ রিক্শা
মনি ------------------------------ মণি
ফনা ------------------------------ ফণা
মত (সাদৃশ্যার্থে) ----------------- মতো
রাণী ------------------------------ রানী
সমীচিন ------------------------- সমীচীন
জীবানু--------------------------- জীবাণু
ধ্বণি ------------------------------ ধ্বনি

ষ্টীল ------------------------------ স্টিল
সরকারী ------------------------- সরকারি
স্মরণী---------------------------- সরণি
ধাঁধাঁ----------------------------- ধাঁধা
ঘুন------------------------------- ঘুণ
ধমনী --------------------------- ধমনি
স্তুপ ------------------------------ স্তূপ
সুক্ষ্ণ ----------------------------- সূক্ষ্ম
স্বপ্নীল --------------------------- স্বপ্নিল
স্বত্ত্ব------------------------------- স্বত্ব
ডাঃ ------------------------------ ডা.
মরুদ্যান ------------------------ মরূদ্যান
ব্রীজ------------------------------ ব্রিজ
পুজা ---------------------------- পূজা
বর্ষন ---------------------------- বর্ষণ
উপলব্দি-------------------------- উপলব্ধি
গোষ্ঠি --------------------------- গোষ্ঠী
গ্রহন ---------------------------- গ্রহণ
গ্যালারী------------------------- গ্যালারি
এজেন্সী ------------------------- এজেন্সি

ষ্টীল ------------------------------ স্টিল
সরকারী ------------------------- সরকারি
স্মরণী---------------------------- সরণি
ধাঁধাঁ----------------------------- ধাঁধা
ঘুন------------------------------- ঘুণ
ধমনী --------------------------- ধমনি
স্তুপ ------------------------------ স্তূপ
সুক্ষ্ণ ----------------------------- সূক্ষ্ম
স্বপ্নীল --------------------------- স্বপ্নিল
স্বত্ত্ব------------------------------- স্বত্ব
ডাঃ ------------------------------ ডা.
মরুদ্যান ------------------------ মরূদ্যান
ব্রীজ------------------------------ ব্রিজ
পুজা ---------------------------- পূজা
বর্ষন ---------------------------- বর্ষণ
উপলব্দি-------------------------- উপলব্ধি
গোষ্ঠি --------------------------- গোষ্ঠী
গ্রহন ---------------------------- গ্রহণ
গ্যালারী------------------------- গ্যালারি
এজেন্সী ------------------------- এজেন্সি

উত্তজেক সেবনের ফল !! (রসালো১৮+হইতে পার)ে

২৭ ঘন্টার কষ্ট । একটানা কষ্ট । উত্তেজক খেয়ে অবস্থা তার নাজেহাল। জৈবিক চাহিদা মেটানোর খায়েশ মেটাতে এ ধরনের উত্তেজক সেবন করার ফল কি হতে পারে সেটি ভালোই টের পেলেন ৪৫ বছরের ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের রদ্রিগেজ ট্রাভেরাস।

কষ্ট সহ্য করতে না পেরে হাসপাতালে যেতে হয়েছে বেচারাকে । তিন সপ্তাহ হাসপাতালে থেকেও অঙ্গ আর নামেনি। কি আর করা । :((
শেষ পর্যন্ত ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নিলেন এ ভয়ানক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিতে কেটে ফেলতে হবে তার বিশেষ এ অঙ্গটি। কারণ স্বাভাবিক কোনো কাজই করা সম্ভব হচ্ছিল না । আর কেটে ফেলার এ কথাটিই ভয় ঢুকিয়ে দেয় বেচারার মনে । অঙ্গহীন জীবনের কথা ভেবেই রদ্রিগেজের পলায়ন ।;) শেষতক ১৬০ কিমি দূরে তাকে খুঁজে পান ডাক্তাররা ।
তাঁর খারাপ অবস্থায়ও তিনি তার বউকে সতর্ক করেছিলেন যেনো অপারেশন বিষয়ে ডকুমেন্টে স্বাক্ষর না করে । কারণ তারতো সম্বল একটাই, অঙ্গহারা হতে চায়না বেচারা । শেষে আরেক হাসপাতালের এক ইউরোলজির ডাক্তরের সহযোগিতায় সুস্থ হয়েছেন তিনি, তারপরই কান মলেছেন- জীবনে কখনও অঙ্গহারা হবার ঝুঁকি নেবনা , কখনও উত্তেজক কিছু সেবন করবো না ।:-*

..... এ বিষয়ক একটি ডিজিটাল গল্প.......:|
গফুর টাও মলো.....
:-*
একদা এক লোক চিন্তা করিল প্রচুর উত্তেজক গ্রহণ করিয়া বউকে সন্তুষ্ট করিবে । কারণ সে কখনও সেটা পারে নাই । শেষতক একসঙ্গে অনেকগুলি খাইয়া মরিয়া গেলো ।X(
কিছুদিন পর হইতে কবরস্থান থেকে ভয়ানক আওয়াজ আসিতে লাগিলো । একদিন সন্ধ্যায় এক ভদ্রলোক মোড়ল বাজার করিয়া ফিরিতেছিল । হঠাৎ দেখিলো অনেক কঙ্কাল দৌড়াদৌড়ি করিতেছে , ছোটাছটি করিতেছে, আর তাদের কে যেনো পিছন থেকে তাড়া করিতেছে । অনেকগুলো কঙ্কাল মোড়লের নিকট আসিয়া প্রাণ ভিক্ষা চাহিলো । বললো, দয়া করিয়া নতুন আগত উত্তেজক সেবন কারি লোকটিকে উঠাইয়া নিয়া যান । মোড়ল আসস্ত করিল এবং প্রাণে বাচিলো । ;)( রাজনীতিবীদ) শেষে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিয়া মোড়ল সবকথা ভূলিয়া গেলো । ২ দিন পর । আবার মোড়ল সন্ধ্যায় দেখিলো কেবল কয়েকটি কঙ্কাল ভগ্ন অবস্থায় পড়িয়া আছে । কোনো রকমে একটি কঙ্কালআসিয়া মোড়লকে বলিল, কাজটা ঠিক হয়নি । এমন লোক যেখানেই যায় ঝামেলা পাকাইয়া তোলে ।
শেষতক আর কি ... সব কঙ্কালের প্রাণ অবসান... এতক্ষনে গফুরটাও শেষ ।:((:((

Work Order format

eivei

e¨ve¯’vcK

wR Gg wW, XvKv-DËi

wcwRwmwe, XvKv|

welqt- bvU-‡evë †eªwRs KvR Avi¤^ Kivi AbygwZi Rb¨ Av‡e`b |

m~Ît- K¨vh©¨v‡`k bs- MÖxW/XvKv)Dt)/31/2008/686 ZvwiLt 21/12/2008Bs|

Ges

`icÎ bs- MÖxW/XvKv)Dt)/30/2008/557 ZvwiLt 19/10/2008Bs|

wcÖq g‡nv`q

D‡cv‡iv³ welq I m~‡Îi Av‡jv‡K Avcbvi m`q AeMwZ I cieZ©x Kvh©µg MÖn‡bi wbwg‡Ë Rvbv‡bv hv‡”Q †h, Avgiv Avcbvi `߇i D‡j­wLZ Kv‡Ri `icÎ `vwLj K‡i me©wbb¥ `i`vZv wnmv‡e we‡ewPZ nB| †mB †gvZv‡eK Avgiv 10% we‡kl RvgvbZ Rgv cÖ`vb K‡i Kvh©¨v‡`k cÖvß nB| ‡mB ‡gvZv‡eK KvRwU A`¨ ZvwiL n‡Z Avi¤^ Kivi AbygwZi Rb¨ Av‡e`b KiwQ|

AZGe, Dc‡ivwj­wLZ Ae¯’vi †cÖw¶‡Z Avgv‡`i cÖwZôv‡bi AbyKz‡j KvRwU Avi¤^ Kivi AbygwZ cÖ`v‡bi cÖ‡qvRbxq e¨ve¯’v MÖnb K‡i evwaZ Ki‡eb|

ab¨ev`v‡š—

Avcbvi wek¦¯’

eivei

e¨ve¯’vcK

wR Gg wW, XvKv-DËi

wcwRwmwe, XvKv|

welqt- bvU-‡evë †eªwRs Kv‡Ri wecix‡Z `vwLjK…Z `‡iii Dci 10% we‡kl RvgvbZ Rgv`vb cÖms‡M|

m~Ît- Avcbv‡`i ‡cÖixZ cÎ bs- MÖxW/XvKv)Dt)/30/2008/657 ZvwiLt 27/11/2008Bs|

Ges

`icÎ bs- MÖxW/XvKv)Dt)/30/2008/557 ZvwiLt 19/10/2008Bs|

wcÖq g‡nv`q

D‡cv‡iv³ welq I m~‡Îi Av‡jv‡K Avcbvi m`q AeMwZ I cieZ©x Kvh©µg MÖn‡bi wbwg‡Ë Rvbv‡bv hv‡”Q †h, Avgiv Avcbvi `߇i D‡j­wLZ Kv‡Ri `icÎ `vwLj K‡i me©wbb¥ `i`vZv wnmv‡e we‡ewPZ nB| †mB †gvZv‡eK Avcbv‡`i †cÖixZ c‡Îi Av‡jv‡K Rvbvw”Q †h Avgiv D³ KvRwU m¤úbœ Ki‡Z m¤§Z AvwQ Ges 10% we‡kl RvgvbZ wnmv‡e †c-AW©vi bs- 2626955, ZvwiLt 18/12/2008Bs, UvKv-15,100/- (UvKv c‡bi nvRvi GKkZ) gvG, RbZv e¨vsK wjt, Avãyj Mwb †ivW kvLv, XvKv GKwU †c-AW©vi cieZ©x Kvh©µg MÖn‡bi Rb¨ ms‡hvRb Kiv nBj|

AZGe, Dc‡ivwj­wLZ Ae¯’vi †cÖw¶‡Z 10% we‡kl RvgvbZ Lvbv MÖnb c~e©K Kvh¨©v‡`k cÖ`v‡bi cÖ‡qvRbxq e¨ve¯’v MÖnb K‡i evwaZ Ki‡eb|

ab¨ev`v‡š—

Avcbvi wek¦¯’

mshy³t eb©bv †gvZv‡eK

ZvwiLt 12/12/2007Bs|

eivei

gnv e¨ve¯’vcK, wm‡÷g Acv‡ikb I

cÖKí cwiPvjK

2q c~t ˆet Avš—tms‡hvM m jv cÖKí

wcwRwmwe, XvKv|

welqt- wmivRMÄ 230 †Kwf myBwPs †ók‡b Avf¨š—ixb iv¯—v wbg©vb Kv‡Ri m¤§wZcÎ Ges 10% wc wR Rgv`vb cÖms‡M|

m~Ît- Kvh©¨v‡`k bs- 6.05/wcwRwmwe/wRGg/2q c~cmjv/2007/611 ZvwiLt 26/11/2007Bs|

Ges

`icÎ bs- 1.10/wcwRwmwe/wRGg/2q c~cmjv/2007/423 ZvwiLt 05/08/2007Bs|

wcÖq g‡nv`q

D‡cv‡iv³ welq I m~‡Îi Av‡jv‡K Avcbvi m`q AeMwZ I cieZ©x Kvh©µg MÖn‡bi wbwg‡Ë Rvbv‡bv hv‡”Q †h, Avgiv Avcbvi `߇i D‡j­wLZ Kv‡Ri `icÎ `vwLj K‡i me©wbb¥ `i`vZv wnmv‡e we‡ewPZ n‡q Kvh¨©v‡`k cÖvß nB| †mB †gvZv‡eK Avgiv D³ KvRwU m¤úbœ Ki‡Z m¤§Z AvwQ Ges 10% wc wR wnmv‡e e¨vsK M¨vivw›U bs- , ZvwiLt 12/12/2007Bs, UvKv-1,50,000/- (GK j¶ cÂvk nvRvi) gvG, RbZv e¨vsK wjt, Avãyj Mwb †ivW kvLv, XvKv GKwU †c-AW©vi cieZ©x Kvh©µg MÖn‡bi Rb¨ ms‡hvRb Kiv nBj|

AZGe, Dc‡ivwj­wLZ Ae¯’vi †cÖw¶‡Z 10% wc wR wnmv‡e e¨vsK M¨vivw›U Lvbv MÖnb c~e©K P~w³cÎ m¤úv`‡bi cÖ‡qvRbxq e¨ve¯’v MÖnb K‡i evwaZ Ki‡eb|

ab¨ev`v‡š—

Avcbvi wek¦¯’

(Avey kvnv`vZ †LvKb)

gvwjK

kvnv`vZ G›UvicÖvBR

ZvwiLt /12/2007Bs|

eivei

gnv e¨ve¯’vcK, wm‡÷g Acv‡ikb I

cÖKí cwiPvjK

2q c~t ˆet Avš—tms‡hvM m jv cÖKí

wcwRwmwe, XvKv|

welqt- wmivRMÄ 230 †Kwf myBwPs †ók‡b Avf¨š—ixb iv¯—v wbg©vb Kv‡Ri wecix‡Z `vwLjK…Z †c-AW©vi †diZ cÖms‡M|

m~Ît- Kvh©¨v‡`k bs- 6.05/wcwRwmwe/wRGg/2q c~cmjv/2007/611 ZvwiLt 26/11/2007Bs|

Ges

`icÎ bs- 1.10/wcwRwmwe/wRGg/2q c~cmjv/2007/423 ZvwiLt 05/08/2007Bs|

wcÖq g‡nv`q

D‡cv‡iv³ welq I m~‡Îi Av‡jv‡K Avcbvi m`q AeMwZ I cieZ©x Kvh©µg MÖn‡bi wbwg‡Ë Rvbv‡bv hv‡”Q †h, Avgiv Avcbvi `߇i D‡j­wLZ Kv‡Ri `icÎ `vwLj K‡i me©wbb¥ `i`vZv wnmv‡e we‡ewPZ n‡q Kvh¨©v‡`k cÖvß nB| †mB †gvZv‡eK Avgiv D³ KvRwU m¤úbœ Ki‡Z m¤§Z AvwQ Ges 10% wc wR wnmv‡e †c-AW©vi `vwLj Kiv n‡q‡Q weavq `ic‡Îi mwnZ mshy³ †UÛvi wmwKDwiwU eve` GK‡Î 02wU †c-AW©vi `vwLj Kiv n‡q‡Q Zvnv †di‡Zi Rb¨ Av‡e`b KiwQ|

AZGe, Dc‡ivwj­wLZ Ae¯’vi †cÖw¶‡Z Avgv‡`i `vwLjK…Z 2wU †c-AW©vi ‡di‡Zi Rb¨ cÖ‡qvRbxq e¨ve¯’v MÖnb K‡i evwaZ Ki‡eb|

ab¨ev`v‡š—

Avcbvi wek¦¯’

(Avey kvnv`vZ †LvKb)

gvwjK

kvnv`vZ G›UvicÖvBR

Monday, June 28, 2010

Albert Schweitzer:
Anyone who proposes to do good must not expect people to roll stones out of his way, but must accept his lot calmly if they even roll a few more upon it.
Aldous Huxley:
Your true traveler finds boredom rather agreeable than painful. It is the symbol of his liberty — his excessive freedom. He accepts his boredom, when it comes, not merely philosophically, but almost with pleasure.
Antoinette Brown Blackwell:
Nature is just enough; but men and women must comprehend and accept her suggestions.
Bertrand Russell:
What a man believes upon grossly insufficient evidence is an index into his desires — desires of which he himself is often unconscious. If a man is offered a fact which goes against his instincts, he will scrutinize it closely, and unless the evidence is overwhelming, he will refuse to believe it. If, on the other hand, he is offered something which affords a reason for acting in accordance to his instincts, he will accept it even on the slightest evidence. The origin of myths is explained in this way.
Bob Dylan:
I accept chaos. I am not sure whether it accepts me. I know some people are terrified of the bomb. But then some people are terrified to be seen carrying a modern screen magazine. Experience teaches us that silence terrifies people the most.
Bonaro W. Overstreet:
Perhaps the most important thing we can undertake toward the reduction of fear is to make it easier for people to accept themselves, to like themselves.
Christopher Morley:
There is no squabbling so violent as that between people who accepted an idea yesterday and those who will accept the same idea tomorrow.
D. H. Lawrence:
The mind can assert anything and pretend it has proved it. My beliefs I test on my body, on my intuitional consciousness, and when I get a response there, then I accept.
Elisabeth Kubler-Ross:
I believe that we are solely responsible for our choices, and we have to accept the consequences of every deed, word, and thought throughout our lifetime.
Elizabeth Kubler-Ross:
People are like stained glass windows: they sparkle and shine when the sun is out, but when the darkness sets in their true beauty is revealed only if there is a light within.
Erich Fromm:
Conditions for creativity are to be puzzled; to concentrate; to accept conflict and tension; to be born everyday; to feel a sense of self.
Groucho Marx:
I would never belong to a group that would accept someone like me as a member.
Helen Keller:
I do not want the peace that passeth understanding. I want the understanding which bringeth peace.
High Eagle:
In life, many thoughts are born in the course of a moment, an hour, a day. Some are dreams, some visions. Often, we are unable to distinguish between them. To some, they are the same; however, not all dreams are visions. Much energy is lost in fanciful dreams that never bear fruit. But visions are messages from the Great Spirit, each for a different purpose in life. Consequently, one person’s vision may not be that of another. To have a vision, one must be prepared to receive it, and when it comes, to accept it. Thus when these inner urges become reality, only then can visions be fulfilled. The spiritual side of life knows everyone’s heart and who to trust. How could a vision ever be given to someone to harbor if that person could not be trusted to carry it out. The message is simple: commitment precedes vision.
Isaac Bashevis Singer:
Life is God’s novel. Let him write it.
Jerome Nathanson:
The price of the democratic way of life is a growing appreciation of people’s differences, not merely as tolerable, but as the essence of a rich and rewarding human experience.
Leo Tolstoy:
Only greatly insolent people establish a religious law which is to be taken for granted by others, which should be accepted by everyone on faith, without any discussion or doubts. Why must people do this?
Madeleine L’Engle:
Conversion for me was not a Damascus Road experience. I slowly moved into an intellectual acceptance of what my intuition had always known.
Margaret Fuller:
I accept the universe!
(Ralph Waldo Emerson’s reported response: “By God, she’d better!”)
Martin Luther King, Jr.:
An individual who breaks a law that conscience tells him is unjust, and who willingly accepts the penalty of imprisonment in order to arouse the conscience of the community over its injustice, is in reality expressing the highest respect for the law.
Maya Angelou:
I long, as does every human being, to be at home wherever I find myself.
Melodie Beattie:
Gratitude unlocks the fullness of life. It turns what we have into enough, and more. It turns denial into acceptance, chaos into order, confusion into clarity…. It turns problems into gifts, failures into success, the unexpected into perfect timing, and mistakes into important events. Gratitude makes sense of our past, brings peace for today and creates a vision for tomorrow.
Michael Jordan:
If you accept the expectations of others, especially negative ones, then you never will change the outcome.
Norman Vincent Peale:
If you want things to be different, perhaps the answer is to become different yourself.
Paul Beattie:
When My Mind is Still
When my mind is still and alone with the beating of my heart,I remember things too easily forgotten:The purity of early love,The maturity of unselfish love that asks — desires — nothing but another’s good,The idealism that has persisted through all the tempest of life.
When my mind is still and alone with the beating of my heart,I can find a quiet assurance, an inner peace, in the core of my being.It can face the doubt, the loneliness, the anxiety,Can accept these harsh realities and can even growBecause of these challenges to my essential being.
When my mind is still and alone with the beating of my heart,I can sense my basic humanity,And then I know that all men and women are my brothers and sisters.Nothing but my own fear and distrust can separate me from the love of friends.If I can trust others, accept them, enjoy them,Then my life shall surely be richer and more full.If I can accept others, this will help them to be more truly themselves,And they will be more able to accept me.
When my mind is still and alone with the beating of my heart,I know how much life has given me:The history of the race, friends and family,The opportunity to work, the chance to build myself.Then wells within me the urge to live more abundantly,With greater trust and joy,With more profound seriousness and earnest service,And yet more calmly at the heart of life.
Paul Beattie was a Unitarian Universalist minister, serving in congregations including in Kansas City, Missouri, and last at the First Unitarian Church of Pittsburgh, PA. He was also president of the Fellowship of Religious Humanists, among his many involvements.
Ralph Waldo Emerson:
Belief consists in accepting the affirmations of the soul; Unbelief, in denying them.
Rollo May:
Communication leads to community, that is, to understanding, intimacy and mutual valuing.
Sydney J. Harris:
It’s surprising how many persons go through life without ever recognizing that their feelings toward other people are largely determined by their feelings toward themselves, and if you’re not comfortable within yourself, you can’t be comfortable with others.
Warren Bennis:
The manager accepts the status quo; the leader challenges it.
Will Stanton:
Getting a dog is like getting married. It teaches you to be less self-centered, to accept sudden, surprising outbursts of affection, and not to be upset by a few scratches on your car.

তৈরী করুন আপনার পছন্দের এনিমেটেড বাংলা শব্দ

তৈরী করুন আপনার পছন্দের এনিমেটেড বাংলা শব্দ
শেয়ার করুন:

১.প্রথমেই নিচের সাইটে যান:
http://www.glitteredtext.com/২.এবার বাংলা লিখতে Glittered Bangla Text -এ ক্লিক করুন।৩. এখন বাংলা শব্দটি লিখুন।(যেমন: নিরব হাসি)৪.এরপর ফন্ট সাইজ, ফন্ট কালার,বর্ডার কালার, বর্ডার সাইজ,গ্লীটার কালার পছন্দমত নির্বাচন করুন।৫.কালার নির্বাচনের জন্য Pick এ ক্লিক করুন।৬.সবশেষে submit বাটনে ক্লিক করুন ও প্রাপ্ত Somwehere Image Link কপি করে যেখানে প্রয়োজন সেখানে পেস্ট করুন। ৭.এভাবে আপনার পছন্দের এনিমেটেড বাংলা শব্দ অতি সহজেই তৈরি করুন। এভাবে যে কোন শব্দ আপনার কমেন্টে এড করতে পারেন। অনেকে আগে জেনেও থাকতে পারেন।আমি আজই জানলাম।

দূর দেশ

ভারতে হিটলার কেন জনপ্রিয়

চিলির বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিল দল

চিলির বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিল দল

রয়টার্স

ইতিহাসের দিকে তাকালে কেবলই সুখস্মৃতি ব্রাজিলের। দ্বিতীয় রাউন্ডে আজকের প্রতিপক্ষ তাদের কাছে যে পাত্তাই পায়নি! তবে নিজেদের সোনালী ইতিহাস নিয়ে গর্ব নয়, বরং গৌরবময় ইতিহাস ভুলেই চিলির সঙ্গে লড়তে চায় দুঙ্গার দল।
গত পাঁচ বছরে দুই দলের সাক্ষাতে সাতবারই হেরেছে চিলি। গোল হজম করেছে ২৬টি! আর বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াইয়ের খবরটা জানতে চান? এ পর্যন্ত দুইবার ব্রাজিল-চিলি মুখোমুখি হয়েছে। দুইবারই জিতেছে ব্রাজিল—১৯৬২ সালের সেমিফাইনালে ৪-২ গোলে এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ৪-১ গোলে। চিলি যে শুধু হেরেছে, এমনটা নয়। ২০০২ সালে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ৩-০ গোলে ব্রাজিলকে হারানোর ইতিহাস রয়েছে তাদের। এবারের বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের দুই ম্যাচের দুটিতেই অবশ্য বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ব্রাজিল।
এ তো গেল দুই দলের সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান। ইতিহাসের আরেকটু পেছনে যেতে চান? সেখানেও আজকের প্রতিপক্ষের অবস্থানটা আকাশ-পাতাল ব্যবধান। ১৯৬২ সালে দেশের মাটিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল চিলি। এটিই বিশ্বকাপে দেশটির সর্বোচ্চ অর্জন। এর পর থেকে কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠতে পারেনি চিলি। মোট সাতটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে তারা। অন্যদিকে বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে অংশ নেওয়া ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা ঘরে তোলার অপেক্ষায় দুঙ্গার দল।
ইতিহাস যখন কেবল ব্রাজিলের জয়গান করছে, তখন দলের অন্যতম প্রাণভোমরা রবিনহো বলছেন, ‘এসব সংখ্যার কোনো অর্থ নেই! ভালো খেলেছি বলে সেই ম্যাচগুলোতে জয় পেয়েছি আমরা। আবারও সেই ভালো খেলাটা খেলে যেতে হবে আমাদের।’ চিলির প্রতি সমীহ জানিয়ে রবিনহো বলছেন, ‘রেকর্ড সব সময় মাঠে ফেবারিট দলের হয়ে কথা বলে না। আমাদের অবশ্যই চিলির প্রতি শ্রদ্ধা রাখা উচিত। আমরা হারতে চাই না, তবে হেরে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।’
রবিনহোর সুরে সুর মিলিয়ে মিডফিল্ডার জিলবার্তো সিলভা বলছেন, ‘অতীতে যা ঘটেছে, তা ভুলতে হবে আমাদের। এবারের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটা নকআউট পর্বের খেলা। চিলি ভালো দল। আমাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।’ এরপর সিলভা যোগ করেন, ‘আমাদের ভুল করার কোনো সুযোগ নেই। পাল্টা আক্রমণে চিলি ভয়ঙ্কর।’

আয়শা ও সামিউল

‘এশা (আয়েশা হুমায়রা) আমাকে বলে, “ছেলেটা বাড়াবাড়ি করছে। বাবাকে বলে দেবে বলে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে।” ...১৯ জুন রাতে আমি সামিউলের গলা টিপে ধরি। এশা এ সময় সামিউলের পা ধরে রাখে। গলা টেপার পরও তার মৃত্যু না হওয়ায় বালিশ চাপা দেই। সামিউল মারা যায়। ...আমি ওই রাতে ছাদে চলে যাই। পরদিন ওই ভবন থেকে বের হই।...আমার ধারণা, এশা পরে লাশটি ফ্রিজে রেখে দেয় এবং সুবিধাজনক সময়ে রাস্তার পাশে ফেলে আসে।’
আদাবরে শিশু সামিউল হত্যাকাণ্ড মামলার আসামি শামসুজ্জামান আরিফ র‌্যাব সদর দপ্তরে এভাবেই হত্যাকাণ্ডের কথা বর্ণনা করে। তাঁর গ্রেপ্তার নিয়ে আজ সোমবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, আজ সকালে রাজধানীর বাড্ডা থেকে আরিফ ও তাঁর ভাই নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রাতে আদাবর থানার পুলিশ আরিফের স্ত্রী সাথীকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আরিফের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়।
গত বৃহস্পতিবার নবোদয় হাউজিংয়ের এ-ব্লকের ৯ নম্বর সড়কের একটি ফাঁকা জায়গা থেকে সামিউলের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়। সামিউল মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদসংলগ্ন গ্রিন উডস স্কুলে নার্সারিতে পড়ত।
পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সামিউলের মা আয়েশা হুমায়রাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে আছেন। মামলাটি তদন্ত করছেন আদাবর থানার উপপরিদর্শক কাজী সাহান হক। থানার পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)ও তদন্ত করছে।

Forwarding Letter

Date: January 31, 2011 Ref: SPAL/R&B/IN-107/11 To kjlkjalskjf;adlks lkjdlkajd;sfk kdj;lksajf;k d;slkj;akjd;kfj Kind attn: Mr. ...